কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রোয়াংছড়ি, বান্দরবান পার্বত্য জেলা
ভূমিকা:
স্রোতোম্বিনী - সাংগু নদী আর অসংখ্য ঝিড়ি বিবৈত রামপাহাড় ঘেরা, গিরির স্বপ্নপূরী, প্রকৃতির রানী, শ্রেষ্ট প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য সুষমামন্দিত, নায়না ভিরাম একটি আদর্শ উপজিলার রোয়াংছড়ি। উচ্চ নিচু সবুজ পাহাড়, কৃত্রিম হৃদ, ঘন অরন্য স্রোতোম্বিনী নদী আর অসংখ্যা ঝিড়ি ঝর্না বির্ধোত উপজাতি ও বাঙ্গলির বৈচিত্রময় পদ চারনায় মুখরিত। এ অঞ্চলটি যেমন সৈর্ণিক শোভাব লিলভুমি। অঞ্চলের সীমাহীন সম্পদ, উপজাতীয় সাংস্কৃতিক আর প্রাচীন ঐতিয্য সম্বলিত এ উপজেলাটি হতে পারে উন্নয়নের প্রাণ কেন্দ্র কিন্তু আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন অবকাঠামো ও শিক্ষার দিক থেকে পিছিয়ে পড়া এ জনপদটি অদ্যবধি বিভিন্ন অবহেলিত।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা অšতর্গত রোয়াংছড়ি উপজেলাটি বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্ব প্রান্তে জেলা, শহর থেকে পূর্ব সড়ক পথে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই উপজেলায় উত্তরে রাঙামটির পার্বত্য জেলা বিলাইছড়ি ও রাজস্থলী উপজেলা, দক্ষিণে বান্দরবান সদর ও রুমা উপজেলা, পূর্বে রুমা উপজেলা এলাকার অধিকাংশ মাটি বেলে দোঁআঁশ থেকে এঁটেল দোঁআঁশ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। এখানে রয়েছে বিস্তির্ন ঢালু জমি, চর জলাধার এবং সমতল ও উর্বর এরাকা। পাহাড় গুলো কিছু সমান্তরাল ভাবে পশ্চিম উত্তর থেকে দক্ষিণ পূর্ব দিকে লম্বা লম্বি ভাবে অবস্থিত। পূর্বে পাহাড় গুলো উচ্চতা ৫৫০-১০৫০ মিটার, দক্ষিণে পাহাড় গুলোর উচ্চতা ৪৫০ মিটার উত্তরাংশ গুলো ৪৮০-৯৭০ মিটার পর্যন্তপার্শ¦অংশ ভাংগার কারনে কোন পাহাড়ের চুড়া খুবই খাড়া।
পার্বত্য অঞ্চলের জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। রিজার্ভ ফরেষ্ট বাদে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে গড়ে প্রায় ২০০জন এবং শুধু সমতল এলাকা গড়ে প্রায় ১৫০ জন লোক বসবাস করেন। এলাকার শতকরা প্রায় ৯৫জন লোকই কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। জনসংখ্যা প্রায় চারভাগে তিনভাগ উপজাতি এবং তাদের প্রায় সবাই জুম চাষ করে। অধিকাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারী কৃষকগণ তাদের ভরন-পোষনের জন্য দানা জাতীয় ফসল, শাকসব্জি বসতবাড়ীর আশেপাশে স্বল্প পরিমান এ ফলমূল উৎপাদন করে থাকেন। পার্বত্য অঞ্চলের জমি ও আবহাওয়াময় উদ্যান ও মাঠ ফসলের জন্য উপযুক্ত। সুতরাং এখানে অনেক বৈচিত্র্যপূর্ন ও লাভ জনক মাঠ ও উদ্যান ফসল উৎপাদনের রয়েছে ব্যাপক ও উজ্জল সম্ভাবনা। কিন্তু পাহাড়ের গাছ পালা পুড়িয়ে জুম চাষের ফলে এ অঞ্চলের ভূমিক্ষয় ও জমির উর্বরতা বিনষ্টসহ বহুবিধ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
এ অঞ্চলের চাষাবাদের জন্য রয়েছে স্থায়ীত্বশীল আধুনিক মডেলে মিশ্র ফসল ফল বাগান এবং মাটির স্থায়ীত্বশীল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পাহাড়ে ও উপত্যকায় মাঠ ও উদ্যান ফসল উৎপাদনের রয়েছে বিপুল ও উজ্জল সম্ভাবনা। তাই আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মাঠ ও মিশ্র ফলজ বাগান স্থাপনের মাধ্যমে অত্র উপজেলার জনগনের আর্থিক স্বচ্ছলতা আনায়নে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করবে।